স্টাফ রিপোর্টার, ০৪ মে ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট রয়েছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক পরিস্থিতি থেকে বিভিন্ন সংস্থাকে পুনর্গঠন ও শৃঙ্খলায় ফেরাতে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
আজ দুপুরে -এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত “বলপ্রয়োগ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি”-এর সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. , পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. , দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অবসরসহ সব কিছুই আইন অনুযায়ী হচ্ছে। বাধ্যতামূলক অবসরের ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, জামিন একটি আইনি প্রক্রিয়া। তবে এসব অপরাধী যাতে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মন্ত্রী জানান, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। , পুলিশ, র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে। বড় মাদক সিন্ডিকেট ও সীমান্ত চোরাচালান চক্রকে ধরাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে ঐতিহ্য বজায় রেখে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শার্টের রঙ অপরিবর্তিত থাকলেও প্যান্ট খাকি রঙের হবে এবং দ্রুতই এটি কার্যকর করা হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ও এলাকায় অবস্থানরত প্রায় ১২-১৪ লক্ষ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাদক চোরাচালান রোধ এবং ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল অধিবেশন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে উঠেছে, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক বিতর্ক এবং রেকর্ডসংখ্যক আইন প্রণয়ন হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





