জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হচ্ছেন মিনহাজুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

সাইপ্রাসে ইউএনএফআইসিওয়াইপির ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বাংলাদেশি এই সেনা কর্মকর্তা; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা আরও বাড়বে

স্টাফ রিপোর্টার | ৩ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সাইপ্রাসে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, আগামী শুক্রবার (৫ জুন) লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিনি সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউএনএফআইসিওয়াইপি)-এর ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম ও গৌরব নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে মিনহাজুল আলম অষ্টম সেনা কর্মকর্তা, যিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এর আগে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা বিভিন্ন দেশে সফলভাবে এ দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে পশ্চিম সাহারায় ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে যোগ দিলে একই সময়ে জাতিসংঘের দুটি মিশনে বাংলাদেশি দুই সেনা কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করবেন, যা দেশের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রেস উইং জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। মিনহাজুল আলমের এই নিয়োগ সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

উল্লেখ্য, সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউএনএফআইসিওয়াইপি) ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠিত হয়। মিশনটির প্রধান দায়িত্ব হলো বাফার জোন বা ‘গ্রিন লাইন’ বজায় রাখা এবং যুদ্ধবিরতি রেখার তত্ত্বাবধান করা।

১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী মিনহাজুল আলম ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন এবং ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি জাতিসংঘ মিশনে সেক্টর কমান্ডার, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।