শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, বিশেষ অভিযানের ইঙ্গিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

চিহ্নিতদের ধরতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ চলমান, দ্রুত চার্জশিট দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার, ১ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি

দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রায় দুই মাস আগে এক বড় ব্যবসায়ীর কাছে একটি সন্ত্রাসী চক্র চাঁদা দাবি করেছিল। বিষয়টি পুলিশ কমিশনারের নজরে আনা হলে ওই ব্যবসায়ীকে চট্টগ্রামে বাসায় পুলিশ প্রহারা দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এতে চক্রটি সুবিধা করতে না পেরে সম্প্রতি আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ায় এবং ভারী অস্ত্রসহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটায়।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ কোনো অভিযান পরিচালিত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো কিছুই বাদ রাখা হবে না এবং সকল শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, যার ফলে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মানুষের মনে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে। আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে উন্নত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নরসিংদীর একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা বাস্তবায়ন করেছে। সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে তা পূর্বানুমান করা সম্ভব নয়, তবে ঘটনার পর দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা আন্তরিক ও কঠোর, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ ইতোমধ্যে সেই আন্তরিকতা ও কঠোরতা প্রত্যক্ষ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবে, আর তদন্ত সংস্থাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করতে উৎসাহিত হবে না।