স্টাফ রিপোর্টার | ৭ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রচলিত আইন-বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার পাথর কোয়ারিগুলো সীমিত আকারে পুনরায় ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিলেট বিভাগের পাথর ও বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারির বর্তমান অবস্থা এবং করণীয় বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–এর উদ্যোগে গঠিত কমিটিতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ (GSB)-এর প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর একজন অধ্যাপক এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক কমিটির সদস্য থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই জেলার পুলিশ সুপারদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরেজমিনে পাথর কোয়ারিগুলো পরিদর্শন করে সীমান্ত নদীগুলোর পলি জমার কারণে সৃষ্ট ওয়াটার ব্যারিকেড পরীক্ষা, নদীভাঙনের ফলে সীমান্ত পরিবর্তনের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে কত গভীরতায় ও কী পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা সম্ভব সে বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিছানাকান্দি, সাদা পাথর ও ভোলাগঞ্জ–এর মতো পর্যটন স্পটগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাফলং–এর মতো ‘ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া’ (ECA) ঘোষিত অঞ্চলগুলো ইজারার আওতার বাইরে থাকবে। চলতি মাসের শেষে কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জুনের প্রথম সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ বাহিনীকে পুনরায় সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠে রাখা হবে না। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজ ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে যৌথ ও একক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করে সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।





