স্টাফ রিপোর্টার | ৯ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বাংলাদেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশু টিকা পেয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-রুবেলা টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে ১০ লাখ ৮ হাজার ৩০১ জন, চট্টগ্রামে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭২ জন, ঢাকায় ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০ জন, খুলনায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৬ জন, ময়মনসিংহে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ১৫ জন, রাজশাহীতে ২০ লাখ ২০ হাজার ৩৭৩ জন, রংপুরে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১৯৬ জন এবং সিলেটে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৫ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায়ও ব্যাপক হারে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৫৪৮ জন, ঢাকা দক্ষিণে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৪৯ জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬১ জন শিশু টিকা পেয়েছে।
গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। ইতোমধ্যে ওই উপজেলাগুলোতে কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং সেখানে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “যেসব এলাকায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ইতোমধ্যেই হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।”
দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে।
পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে তৃতীয় দফার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ১২ মে পর্যন্ত চলবে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে হাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে দেশে হামের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। টিকা হাতে পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাম প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা অত্যন্ত বেশি। সাধারণত টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রাদুর্ভাব কমতে দেখা যায়। সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হলে হাম পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।





