অপারেশন ‘সিন্দুর’ এর পর পাকিস্তান সীমান্তজুড়ে সতর্কতা, সীমান্ত রাজ্যগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক
নিউজ ডেস্ক, ৭ মে ২০২৫
কাশ্মীর ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে “সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান” চালানোর পর ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনী একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। এর পরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নরদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে সীমান্তে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সুরক্ষা, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও পরিষেবা সরবরাহ বজায় রাখা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীগুলিকে প্রস্তুত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর প্রশাসনকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর, পাঞ্জাব, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীরা। বৈঠকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পরিস্থিতি, নাগরিক সুরক্ষা, এবং সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ। জবাবে ভারত সরকারও সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে একযোগে করণীয় নির্ধারণে তৎপর হয়েছে। সূত্রের মতে, যদি পাকিস্তান পাল্টা হামলার পথে যায়, সেক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন্ত্রিসভার সঙ্গে অপারেশন সিন্দুর নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী এই অভিযানকে “প্রতিরক্ষার স্বার্থে এক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন।
যদিও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে পাকিস্তান বা ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি, তবুও সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীগুলির তৎপরতা এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনাগুলি আসন্ন সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে।





