স্টাফ রিপোর্টার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে বিএনপি ও জামায়াত প্রতিযোগিতায় নেমেছে—এমন অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সমঝোতা বা আপোষের প্রশ্নই ওঠে না।
মঙ্গলবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডেইলি স্টার-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইলেকশন ডায়ালগ অনুষ্ঠানে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি) সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও বামজোটের শীর্ষ নেতারা এসব বিষয়ে মুখোমুখি আলোচনা করেন।
সংলাপে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও সমাজে দলটির ভোট ও সমর্থকদের নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। তিনি বলেন, যারা গণহত্যা বা সন্ত্রাসে জড়িত ছিল না, তাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন। এ জন্য আওয়ামী লীগের বিষয়ে একটি রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের পক্ষে মত দেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরাবির্ভাব ঠেকাতে হলে কেবল দল নয়, বরং ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারা ও সিস্টেম ভেঙে দিতে হবে। তা না হলে এই প্রশ্ন বারবার ফিরে আসবে এবং সমাজকে বিভক্ত করবে।
এর জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“মব সৃষ্টি করে পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে বা মানুষ হত্যা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। গণতন্ত্র একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া—এটি জোর করে আদায় করা সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন,
“এত রক্ত ও ত্যাগের পর ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে কাজ করার প্রশ্নই ওঠে না। কেউ কেউ দল বদল করতে পারে, তবে আমরা এখনো মনোনয়ন চূড়ান্ত করিনি এবং কোনো ফ্যাসিস্টকে দলে নেওয়ার মতো রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা আমাদের নেই।”
সংলাপে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপি ও অন্যান্য দলে যোগদান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে নেতারা বলেন, গণহত্যা ও দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার।
নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে কী করবে—সে বিষয়ে দলগুলো অর্থনৈতিক মুক্তি, সুশাসন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে।
এছাড়া সংলাপে র্যাব বিলুপ্তি, নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, শ্রম আইন সংস্কার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহনশীলতার ওপর জোর দেন।





