বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আজ শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫ তারিখে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত দোয়া ও মৌন মিছিল কর্মসূচিতে বক্তব্য রেখেছেন।
তার বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো হলো:
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান: তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “একটি দলকে কোলে আর আরেকটি দলকে কাঁখে নেয়ার রাজনীতি চলতে পারে না। জনগণ ন্যায়বিচার চায়, পক্ষপাত নয়।” তিনি দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ এতে দেশে শান্তি ফিরবে। অন্যথায়, তিনি মনে করেন, দেশকে অশান্ত করার প্রক্রিয়া সরকার নিজেই করছে।
- বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা: মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে বিএনপির একজন কর্মীও বেঁচে থাকতে এই চেষ্টা সফল হবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বিএনপি ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য রাজপথে আন্দোলন করেছে এবং তাদের নেতাকর্মীরা জেল খাটতে ও রাস্তায় আন্দোলন করতে অভ্যস্ত।
- শহীদদের সম্মান: তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে শহীদরা কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেননি, বরং তারা দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য জীবন দিয়েছেন। তিনি কিছু দলের সমালোচনা করেছেন যারা শহীদদের নিয়ে “ব্যবসা-বাণিজ্য” করছে এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
- ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ: মির্জা আব্বাস একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, “শাহাদত বরণকারী ভাইরা সব সময় একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চেয়েছিল। আমরাও একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের মাধ্যমে বিদেশি প্রভুত্ববাদ দূর করা যাবে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যাবে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জন করা যাবে।”
সংক্ষেপে, মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা, বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।





