স্টাফ রিপোর্টার, ১৫ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীতে অবৈধ বিদেশি মদ মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬৫ বোতল ভারতীয় বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সমাজকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় দেশব্যাপী ডিএনসির অপারেশনাল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
ডিএনসির গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল, বিভিন্ন উৎসবসহ আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে একটি চক্র রাজধানীতে অবৈধ বিদেশি মদ সরবরাহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। সেই সূত্র ধরে জানা যায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) হাজারীবাগ থানার ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকা থেকে আনা অবৈধ ভারতীয় মদ মজুদ করা হয়েছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল ১৩ মার্চ শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়।
অভিযানে মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) ও মো. আবদুর রহমান (৩৭) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে বাসার ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি কক্ষে রাখা চারটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৬৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মদের মধ্যে ছিল রয়্যাল স্ট্যাগ, আইস ভদকা, ব্লেন্ডার্স প্রাইড এবং ম্যাকডাওয়েলস ব্র্যান্ডের মদ। প্রতিটি বোতল ৭৫০ মিলিলিটার হিসেবে মোট প্রায় ৪৮ লিটারের বেশি বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাসাটি ভাড়া নিয়ে গোপনে বিদেশি মদ মজুদ করে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছিল। মো. গাউসুল আজম প্রিন্স মূলত মোহাম্মদপুরসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বিদেশি মদের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে মো. আবদুর রহমান ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় মদ সংগ্রহ করে ঢাকায় সরবরাহ করতেন।
ডিএনসি জানিয়েছে, অবৈধভাবে আনা এসব বিদেশি মদ অনেক সময় ভেজাল বা টিউন করা থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অতিরিক্ত মিথানল থাকতে পারে, যা দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া, স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী ডিএমপির হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামতের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।





