ঢাকা ২ অক্টোবর ২০২৫:
শারদীয় পূজা উদযাপনের সময় বাংলাদেশে চিত্রটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। দেশের মণ্ডপগুলোতে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে উৎসব উদযাপন করছে। প্রতিটি মণ্ডপে দেখা যায়, ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একে অপরের সঙ্গে হাসি-খুশি ভাগাভাগি করছে, প্রসাদ গ্রহণ করছে, মেলায় ঘুরছে। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
পুরান ঢাকার শ্যামবাজার, উত্তরার মণ্ডপগুলোতে স্থানীয় মুসলিমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজা মণ্ডপে অংশ নিচ্ছেন। শিশুরা একসাথে প্রসাদ নিচ্ছে, যুবকরা মেলা ঘুরছে—এই দৃশ্য দেখলে বোঝা যায় যে, সম্প্রীতি এখানে আরোপিত নয়, বরং অর্জিত এবং সহজাত। সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে যে বন্ধন ধরে রেখেছে, তা রাজনৈতিক কৌশল বা বহিরাগত প্রভাবের বাইরে।
বাংলাদেশে পূজা উদযাপনের ঐতিহ্য বহু প্রজন্ম ধরে গড়ে উঠেছে। বরাবরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা—চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা—সহ ঢাকার মণ্ডপগুলোতে উৎসব চলেছে আড়ম্বর ও সাদৃশ্যের সঙ্গে। এই মেলামেশা শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক বন্ধন ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপেরও উৎস। হস্তশিল্পী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্থানীয় উদ্যোক্তা সবাই মিলিতভাবে উৎসবকে সমৃদ্ধ করছে।
যদিও রাজনৈতিক মহলে কখনও কখনও ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’কে একটি ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা দেখা যায়, মণ্ডপগুলোর বাস্তব চিত্র তা অকার্যকর প্রমাণ করছে। একজন মুসলিম প্রতিবেশীর হাসি মুখে পূজার প্রসাদ গ্রহণ বা একজন হিন্দু বন্ধু ইদের শুভেচ্ছা জানানো—এসবই দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতার মূল ভিত্তি বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই নিহিত।
সংবিধান এবং সংস্কৃতিই আমাদের মনে করিয়ে দেয়: “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” এটি নিশ্চিত করে যে, নাগরিকরা তাদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ভোগ করছে এবং রাষ্ট্রের চোখে সকলেই সমান। দেশের সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের মতো করে উৎসব পালন করছে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তখন স্পষ্ট হয় যে রাজনৈতিক বা বহিরাগত চাপ এই ঐক্যকে টলাতে পারবে না।
শেষ কথা হলো—সবার আগে বাংলাদেশ। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে দেশের নাগরিকেরা একত্রে আনন্দ করছে, মিলেমিশে উদযাপন করছে এবং একটি শক্তিশালী সম্প্রীতির বার্তা বিশ্বকে জানাচ্ছে। এই সময়ে উৎসবের রঙের মধ্যে লুকানো একতার দৃশ্যই বাংলাদেশকে সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে চিত্রিত করে।





