এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষম সরকার, লক্ষ্য ৯০ দিনের মজুদ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই, প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার


স্টাফ রিপোর্টার | ২৭ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টায় যশোরে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যে জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের এককালীন চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকটের বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে এবং এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার এখনো এমন কোনো পরিকল্পনা নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে বিদ্যুতের মূল্য, গণপরিবহণ ব্যয় এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে—এই অবস্থায় নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে অসহনীয় করে তুলতে পারে।

চাহিদা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছর মার্চে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার টন, যা বর্তমানে বেড়ে ২৪-২৫ হাজার টনে পৌঁছেছে। একইভাবে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর একটি নামকরা পেট্রোল পাম্প যেখানে আগে দৈনিক ৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করত, এখন সেখানে ৯-১০ হাজার লিটার বিক্রির পরও ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন গড়ে ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান যে পাঁচটি দেশকে অনুমতি দিয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে—যা সরকারের কূটনৈতিক অর্জনের একটি উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ দফায় যশোর জেলার ১৫৩ জন অসহায় নারী-পুরুষের মধ্যে মোট ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।