এমএ কায়ুমের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নাহিদ ইসলামের রিট খারিজ

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সরাসরি রিট খারিজ, এম এ কায়ুমের মনোনয়ন বহাল

স্টাফ রিপোর্টার,৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা–১১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এম এ কায়ুমের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিটটি করেছিলেন একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সভাপতি নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ ছিল, এম এ কায়ুম ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, যা মনোনয়ন বাতিলের কারণ হতে পারে।

আদালতে বিএনপির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম, বাহবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাদুর রোব ও অনিক আর হক।

বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২০ জানুয়ারি ২০২৬। ২৬ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এ পর্যায়ে রিট দায়ের করে মনোনয়ন বাতিলের চেষ্টা আইনসিদ্ধ নয়।

তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আদালতে রিট করা ঝুঁকিপূর্ণ। ফেসবুকে ভাসমান কোনো তথ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হতে পারে না। এম এ কায়ুম অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি বলেও আদালতে দাবি করা হয়।

আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে এম এ কায়ুম মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার বিরুদ্ধে আনা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন। এর ফলে ঢাকা–১১ আসনে এম এ কায়ুমের প্রার্থিতা বহাল থাকছে।

বিএনপির আইনজীবীরা বলেন, নির্বাচন হবে ভোটের মাঠে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে মনোনয়ন বাতিলের চেষ্টা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করবেন।