গণভোট বাস্তবায়নে আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর, অধ্যাদেশ দিয়ে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণভোটে পাওয়া জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ বা অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

রোববার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্য দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটে জনগণের রায়কে সরকার সম্মান করে। তবে গণভোটের আদেশে এমন কিছু প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা জুলাই সনদের রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ ছিল না। চারটি ভিন্ন প্রশ্নের জন্য একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা যৌক্তিক ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যে ‘আরোপিত আদেশের’ কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, তবে সেই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।

মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে নয়, সংবিধান ও আইন মেনেই পরিচালিত হয়। সরকার ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও তা কোনো অবৈধ বা আরোপিত আদেশের মাধ্যমে নয়, বরং সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ কোনো অধ্যাদেশ বা আইন নয়। তাই ওই আদেশের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ বা রাষ্ট্রপতির কাছে অধিবেশন আহ্বানের দাবি অসাংবিধানিক।

চলতি অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সামনে দীর্ঘ ছুটি থাকায় বর্তমান অধিবেশনে সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত হলে আগামী বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা যেতে পারে।

বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছে যে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দকে সম্মান করা হবে। সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় সদস্যরা সেই ভাষণ শুনতে না চেয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলেও পরে সেই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়, তবে সংখ্যানুপাতে সময় বরাদ্দ করা হবে।

এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশের আলোকে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।