গুমের সঙ্গে জড়িতরা আইনের ফাঁক দিয়ে পালাতে পারবে না: আইনমন্ত্রী

গুম প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার | ৫ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা কোনোভাবেই আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না। এ লক্ষ্যে সরকার আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নে কাজ করছে।

রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

আইনমন্ত্রী বলেন, “গুমের শিকার ব্যক্তিরা শুধু একটি পরিবারের সদস্য নন, তারা সমগ্র জাতিরই অংশ। তারা আমার ভাই, আমার স্বজন, আমার সহকর্মী—বাংলাদেশের মানুষ। তাদের প্রতি অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি জানান, বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশসমূহ পর্যালোচনা করে গুম প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা হবে। এ জন্য সংসদের চলতি বা পরবর্তী অধিবেশনে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট বিল আনা হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এ গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা তিনি অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান আইনে তদন্ত ব্যবস্থায় দ্বৈততা রয়েছে—একদিকে আইসিটি আইনের অধীনে তদন্ত, অন্যদিকে গুম প্রতিরোধ আইনে আলাদা প্রক্রিয়া। এই অসামঞ্জস্য দূর করা জরুরি।

এছাড়া মানবাধিকার কমিশন আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি। বর্তমান কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এর আগে বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, গত সরকারের সময়ে বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সেই অন্ধকার স্থান থেকে ফিরে এসেছি, যেখানে আমার মতো আরও শত শত মানুষকে নেওয়া হয়েছিল।”

তিনি জানান, এক পর্যায়ে তিনি ভেবেছিলেন তাকে হত্যা করা হবে এবং সেই সময় তিনি সূরা ইয়াসিন পাঠ শুরু করেন। পরে কিছু সাহসী তরুণের উদ্যোগে তিনি জীবিত ফিরে আসার সুযোগ পান।

গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আইন বাতিলের সুপারিশে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রণীত আইন কেন বাতিলের কথা বলা হচ্ছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে এমন কঠোর আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নাগরিক গুম বা হত্যার শিকার না হন।

শেষে আইনমন্ত্রী পুনরায় আশ্বাস দিয়ে বলেন, সব ধরনের অসঙ্গতি দূর করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে, যা গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।