বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংকট ও তার পেছনের কারণসমূহ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দেশের যানবাহন চালকদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু এবং তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ করে থাকে। কিন্তু ২০১৯ সালের পর থেকে সংস্থাটি লাইসেন্স প্রিন্ট ও বিতরণসহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারছে না। ইতোমধ্যে ৭ লাখের বেশি মানুষ তাদের স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে দেরিতে ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন, কেউ কেউ দীর্ঘ সময় তিন-চার বছর অপেক্ষা করছেন।
বিআরটিএর সঙ্গে ভারতের মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড (এমএসপি) নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ২০২০ সালের ২৯ জুলাই থেকে পাঁচ বছরের জন্য স্মার্ট কার্ড ছাপানোর ও বিতরণের চুক্তি করেছিল। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের কাজ সময়মতো শেষ হয়নি এবং ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট ও সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সমস্যার কারণে বিআরটিএ চালকদের কাগজভিত্তিক ‘ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স’ প্রদান করছে, যা পুলিশ আইনগতভাবে গ্রহণ করছে, তবে স্মার্টকার্ড ছাড়া বিদেশগামী কর্মীরা সঠিক লাইসেন্স না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন।
বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দরপত্র ও ঠিকাদারি নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিলতা তৈরি হওয়ায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগে অন্তত ছয় মাস সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিআরটিএর ডেটাবেইস ও সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ এখনও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা এবং বিআরটিএর নিজস্ব পূর্ণ অ্যাক্সেস না থাকার কারণেও সমস্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
বিআরটিএ ইতোমধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) চালু রেখেছে। এছাড়া ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রচারও বাড়ানো হচ্ছে, যা বর্তমানে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে দীর্ঘদিনের দেরি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সাধারণ চালক ও আবেদনকারীরা এখনও গুরুতর অসুবিধার মুখে রয়েছেন।





