ঢাকা ১৪ ও ১৬ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা: সেনাবাহিনী

১৮% ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত সেনা সদস্যরা

১৮% ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত সেনা সদস্যরা

স্টাফ রিপোর্টার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,নিউজ চ্যানেল বিডি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা ১৪ ও ঢাকা ১৬ আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউনিট টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় গত প্রায় ১৮ মাস ধরে বিশেষ করে মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় ব্রিগেড মোতায়েন রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করাই ছিল তাদের মূল দায়িত্ব। বর্তমানে নির্বাচনী দায়িত্ব উপলক্ষে ঢাকা ১৪, ১৫, ১৬, ১৮ এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের আংশিক এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও ভয়ভীতিমুক্ত রাখা সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য, যাতে সাধারণ ভোটাররা নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন।

মোতায়েনকালীন সময়ে বিপুল সংখ্যক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এতে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী সমন্বিত ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বেসামরিক প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।

বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ সহিংসতা, ভয়ভীতি, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটকেন্দ্রগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ—এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সদস্য মোতায়েন নির্ধারণ করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা কাভারেজ নিশ্চিত করার কাজও চলমান রয়েছে।

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে। কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।

ঢাকা ১৪ আসনে সম্ভাব্য সংঘর্ষের বিষয়ে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যেহেতু আসনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত, তাই সেখানে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাবে। সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন কেন্দ্রে যাতায়াতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো অনিয়ম বা সহিংসতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।