স্টাফ রিপোর্টার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বিএনপি বা কোনো ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং জনগণের নিজস্ব স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার নির্বাচন।
তিনি বলেন, “আপনারা যদি ভালোভাবে বাঁচতে চান, যদি আগামী দিনে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তাহলে আপনাদের ভোট দিতে হবে তারেক রহমানকে।”
শনিবার রাজধানীর বনানীতে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্ন জড়িত। প্রতিদ্বন্দ্বী দল ক্ষমতায় গেলে মানুষের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের শ্রমঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হবে। এতে নারীদের চাকরি, চলাফেরা ও পড়াশোনার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী এবং পরিবার ও অর্থনীতিতে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবদুস সালাম বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুযায়ী যার যার ধর্ম ও জাতিসত্তা থাকবে, কিন্তু সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। এই জাতীয়তাবাদী চেতনার মাধ্যমেই দেশকে একসাথে রাখা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে যে রাজনৈতিক জোয়ার তৈরি হয়েছে, তা বিএনপির পক্ষেই যাচ্ছে। বিএনপি জয়ী হলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং এই সুযোগ জনগণের স্বার্থে কাজে লাগানো উচিত।
তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিদেশগামী শ্রমিকদের ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা দূর করার লক্ষ্য রয়েছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে অরাজক পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলেও তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন—কোথাও দখল, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। এতে তার নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতার প্রমাণ মেলে।
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভোট আপনার আমানত। এক দিনের ভুল সিদ্ধান্তে পাঁচ বছর ভুগতে হয়।” তিনি সবাইকে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





