স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সোমবার বিকেলে দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের জায়গা। এই শহরের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষ সাধারণত জিজ্ঞেস করে নানা বাড়ি কোথায়। কিন্তু দিনাজপুরের কথা মনে হলেই আমার কাছে নানি বাড়ির কথাটাই আগে মনে পড়ে। শহরের বালুবাড়ি ও ঘাসিপাড়ায় আমার নানা-নানির বাড়ির অনেক স্মৃতি রয়েছে।”
এলাকার প্রতি সেই টান থেকেই দায়িত্ববোধ নিয়ে দিনাজপুরের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে জেলা প্রশাসক, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে সরকার গঠনের পর থেকেই। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সরকার গঠন করার পর প্রায় এক মাসের মধ্যে মানুষের কাছে যে ওয়াদা করেছি, তার অনেকগুলোর কাজ শুরু করেছি।”
এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী-নালা ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে, আবার বর্ষাকালে হঠাৎ পানি এলে ফসল ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে কৃষিকাজে পানির ব্যবহার সহজ হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, আগে যেখানে ১০০ থেকে ১৫০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে। খাল ও নদী খননের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ করা গেলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় রিচার্জ হবে এবং আর্সেনিক সমস্যাও কমতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের পেছনে রেখে আমরা দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারব না।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দেশের ১৫টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনেও এই প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে ধীরে ধীরে সারা দেশে এর পরিসর বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
সমাজের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি প্রত্যাশিত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাবে।
সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সুধীজন ও এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।





