ভারতের আহমেদাবাদে গত জুন মাসে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের চাঞ্চল্যকর কথোপকথন প্রকাশিত হয়েছে। এই কথোপকথন বিমান দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
দুর্ঘটনার মূল রহস্য: জ্বালানি সুইচ বন্ধ!
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের বিমানটি উড্ডয়নের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এর দুটি জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ ‘রান’ (চালু) অবস্থা থেকে ‘কাট-অফ’ (বন্ধ) অবস্থায় চলে যায়। এর ফলে বিমানের ইঞ্জিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত, এই সুইচগুলো বিমান অবতরণের পরই ‘কাট-অফ’ করা হয়, কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই এমন ঘটনা ঘটা চরম অস্বাভাবিক।
ককপিটের ভয়ার্ত কথোপকথন
ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে (CVR) রেকর্ড হওয়া কথোপকথন অনুযায়ী, জ্বালানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঠিক ওই মুহূর্তে এক পাইলট আতঙ্কিত হয়ে অন্য পাইলটকে প্রশ্ন করেন, “কেন জ্বালানি বন্ধ করে দিলে?” উত্তরে অন্য পাইলট বলেন, “আমি কিছু বন্ধ করিনি।” তবে রেকর্ডারে স্পষ্ট করে বলা হয়নি যে, কে কোন কথাটি বলেছেন। জানা গেছে, উড্ডয়নের সময় সহকারী পাইলট বিমান চালাচ্ছিলেন এবং ক্যাপ্টেন ছিলেন তদারকিতে।
পাইলটদের মরিয়া চেষ্টা
ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিমানের গতি ও উচ্চতা দ্রুত কমতে থাকে। পাইলটরা সেই মুহূর্তে দুটি জ্বালানি সুইচই আবার ‘কাট-অফ’ থেকে ‘রান’-এ ফিরিয়ে আনার মরিয়া চেষ্টা করেন। এতে ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় চালু হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একটি ইঞ্জিন সাময়িকভাবে শক্তি ফিরে পেলেও, অন্য ইঞ্জিনটি পুরো শক্তি ফিরে পায়নি। এই পরিস্থিতিতেই একজন পাইলট “মে-ডে মে-ডে মে-ডে” বলে জরুরি বিপদসংকেত পাঠান। কিন্তু এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারের (ATC) পক্ষ থেকে কল সাইন জানতে চাওয়া হলেও কোনো উত্তর মেলেনি, কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে বিধ্বস্ত হয়।
তদন্তের প্রশ্নগুলো
‘লিভার-লক ফুয়েল সুইচ’ এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন দুর্ঘটনাবশত এটি বন্ধ না হয়ে যায়। এই সুইচ বন্ধ করতে হলে প্রথমে টেনে আনলক করতে হয় এবং তারপর ফ্লিপ করতে হয়, যা এক হাতে দুটি সুইচ একসঙ্গে বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব। তাই তদন্তকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন:
- সুইচগুলো কি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করা হয়েছিল?
- এটি কি কোনো ভ্রান্তির ফল?
- নাকি এটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে?
প্রাথমিক রিপোর্টে পাখির ধাক্কা বা যান্ত্রিক ত্রুটির কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ককপিটের এই কথোপকথন এবং জ্বালানি সুইচ বন্ধ হওয়ার বিষয়টিই এখন দুর্ঘটনার মূল রহস্য। কারা কী বলেছেন এবং কার হাতে সুইচ বন্ধ হয়েছিল, তা চিহ্নিত করা এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা ককপিট ভিডিও রেকর্ডার চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন, যা এ ধরনের ঘটনার কারণ উদঘাটনে আরও সাহায্য করতে পারে।





