নির্বাচিত হলে সব ধর্মের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো: হাবিব

ঢাকা–৯ আসনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অঙ্গীকার বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবের

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ঢাকা–৯ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব নির্বাচিত হলে সব ধর্মের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক দায়িত্ব।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরাম ও সর্বস্তরের বৌদ্ধ জনসাধারণের উদ্যোগে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস কেবল রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস নয়; এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টান—এই বৈচিত্রই বাংলাদেশের শক্তি। এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই সমান অধিকার ও সমান মর্যাদার অংশীদার।

তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা অহিংসা, করুণা, সহনশীলতা ও মানবপ্রেম—যা একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের ভিত্তি। রাজনীতির ভাষা যখন বিভাজনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন এই মানবিক মূল্যবোধ মানুষকে আবার একত্রিত করে।

তিনি আরও বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”—এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনে। ঢাকা একটি বহুত্ববাদী জনপদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ সকল ধর্ম ও শ্রেণির মানুষ যুগের পর যুগ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করছে। তাই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা, শিক্ষা কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব অটল থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপোষ চলবে না।

নির্বাচিত হলে সব ধর্মের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখা, তরুণ প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলা এবং যেকোনো সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

হাবিব বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হবে, যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে কিছু থাকবে না—থাকবে সবার জন্য সমান ভরসা ও নিরাপত্তা। রাজনীতির প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন মানুষ নিরাপদ ও সম্মানিত থাকবে।

তিনি বলেন, “আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা—সবার আগে বাংলাদেশ।”

এ সময় তিনি একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।