স্টাফ রিপোর্টার, ০৬ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার আগামী পহেলা বৈশাখ অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবে। এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা পাওয়া, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ গ্রহণ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।
শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড চালুর ফলে কৃষকরা কৃষি প্রশিক্ষণসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও জানতে পারবেন। সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পাট খাত বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। পাটশিল্পের উন্নয়ন হলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ বছরের জাতীয় পাট দিবসের প্রতিপাদ্য ‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’ আমাদের নতুন সম্ভাবনার দিকনির্দেশনা দেয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্য বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব পাটকলের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাঁচা পাটের চাহিদা ও যোগান নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক কর্মসূচি ও সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববাজারে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে সরকার পাট রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে দ্রুত ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পাটচাষি ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাটচাষিদের উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং মানসম্মত আঁশ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক, নান্দনিক ও ব্যবহার উপযোগী পাটপণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৃজনশীল তরুণরা স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি ও বিপণনে এগিয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি স্টার্টআপ উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিং করে বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে পাটখাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে এবং পাটপণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে হবে।





