প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে সরকার, ২০২৭ সালে নতুন সিদ্ধান্ত

লটারিভিত্তিক পদ্ধতিকে পুরোপুরি যৌক্তিক মনে করেন না শিক্ষামন্ত্রী; সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত হবে নতুন ব্যবস্থা



স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান ভর্তি পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ২০২৭ সালের ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

কুমিল্লা-৪ আসনের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)’র এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে চাপ মূলত শহরাঞ্চলে বেশি, বিশেষ করে ঢাকায়। তবে গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে সাধারণত এ ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যায় না।

তিনি জানান, শহরের স্কুলগুলোতে ভর্তি চাপ সামাল দিতে আগে লটারিভিত্তিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, এই পদ্ধতি খুব যৌক্তিক কোনো ব্যবস্থা নয়।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৭ সালের ভর্তি পদ্ধতি চূড়ান্ত করার আগে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সেমিনার ও আলোচনা আয়োজন করে জনমত গড়ে তোলা হবে।

এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ প্রাথমিক স্তরে মেধাভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি থেকে লটারিভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে ফিডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান দুর্বল হয়ে পড়ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মানের ওপরও পড়তে পারে।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, মাদ্রাসা ও কওমিসহ একাধিক ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান, যেগুলোকে সমন্বয় করা একটি জটিল চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে জাতীয় নীতিমালার আওতায় একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে আনতে সরকার ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ইবতেদায়ি (প্রাথমিক মাদ্রাসা) শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং কওমি শিক্ষাকে বৃহত্তর জাতীয় শিক্ষা কাঠামোর মধ্যে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও সমন্বিত হয়, সে লক্ষ্যে ধীরে ধীরে এই বিভিন্ন ধারার মধ্যে সমন্বয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’