স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সহিংসতার মধ্যে ইরান দাবি করেছে, বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলা হয়েছে। উপসাগরীয় জনবহুল এলাকার কাছে অবস্থিত এই বেসামরিক স্থাপনাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি কখনো ইরানের বিরুদ্ধে বড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আবার কখনো যুদ্ধ প্রায় শেষ বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পরে তিনি আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে সময়সীমা বাড়ান।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা যুক্ত আছেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ইরানকে সদিচ্ছার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সংঘাত থেমে নেই। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন থেকে প্রায় ৩,০০০ সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন—যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। তেল আবিবে ধ্বংসস্তূপের ছবি প্রকাশ পেয়েছে এবং সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
ইসরাইল জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সামরিক পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন নেই। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘হুমকি দূর করতে’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে ১৫ দফা চুক্তির ভিত্তিতে আলোচনা হতে পারে। এতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথাও আলোচনায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে প্রত্যাহার করেন।
বর্তমান প্রস্তাবে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও, ট্রাম্প দাবি করেছেন দেশটিতে কার্যত ইতোমধ্যে শাসন পরিবর্তন ঘটেছে। তবে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তেলবাজারে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে’ বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, যা আলোচনার ইঙ্গিত দেয়।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান জোরদার করেছে এবং কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। লেবাননে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৭২ জন নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই সময়ে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করছে।
এদিকে বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। তেহরানের এক বাসিন্দা বলেন, “বিস্ফোরণ আর ক্ষেপণাস্ত্র এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলবাজারেও। আলোচনার আশায় দাম কিছুটা কমলেও পরে আবার বেড়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।





