স্টাফ রিপোর্টার, ৩১ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
শাপলা চত্বরের ঘটনায় জড়িত থাকলে রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী পর্যন্ত কাউকেই তদন্তের বাইরে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন পক্ষ। একই সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেদন আগামীকাল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং এতে কোনো ব্যক্তি বা পদমর্যাদা বিবেচনা করা হবে না। তদন্তে যার নাম আসবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন তিনি অসুস্থ। বিষয়টি আজ কার্যতালিকায় না থাকায় আগামীকাল শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, আবেদনপত্রে উল্লেখিত রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হবে। যদি সত্যিই চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে মানবিক কারণে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে সুপারিশ করা হবে। প্রসিকিউশন আরও জানায়, বিচার চলবে আইনের নিয়মে, তবে একজন আসামির মানবিক অধিকারও নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে ‘ক্রসফায়ার’ হত্যার একটি মামলায় অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু হাওলাদার ও কোভিদ মোল্লা নামে ছাত্রদল ও জাসাস সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথমে তাদের একটি গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়। পরে বরিশালের আগৈলঝাড়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে রাতের বেলায় তাদের গুলি করে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটিকে ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখানো হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, হত্যার পর পুলিশ নিজেরাই জিডি করে এবং পোস্টমর্টেম করায়। এসব নথিপত্রেই উল্লেখ রয়েছে যে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তারা পুলিশের হেফাজতেই ছিলেন এবং সেখানেই তাদের হত্যা করা হয়।
প্রসিকিউশন দাবি করেছে, মামলায় পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণ রয়েছে। আগামী তারিখ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে এবং মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।





