শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরাতে ভারতকে চিঠি দিয়েছে সরকার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়নে কূটনৈতিক উদ্যোগ

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
৫৪তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার তিনটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে—জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি মামলার রায় ঘোষণা করেছে। স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রমাণভিত্তিক বিচার প্রক্রিয়ায় দেশের ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ড. ইউনূস জানান, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভ্যুত্থানের পর পলাতক শেখ হাসিনা এবং মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফেরাতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক ডজন পুরনো আইন সংশোধন এবং বেশ কয়েকটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সংস্কারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ জারি করা হয়েছে, যা মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার নিশ্চিত করবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য এখন নাগরিকদের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে আগামী সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত জানাবে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে।
ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে নতুন বাংলাদেশের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনা।
তিনি বলেন, সরকার চায় নির্বাচন হোক উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোপরি সুষ্ঠু। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব সবার। ভোট শুধু একটি সিল মারা নয়; এটি নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার প্রতীক। দেশের মালিকানা জনগণের হাতে, আর সেই মালিকানার স্বাক্ষরই হলো ভোট।
তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখতে হবে, শত্রু হিসেবে নয়। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।