স্টাফ রিপোর্টার | ৩১ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, সংবিধান এবং জুলাই জাতীয় সনদ—উভয়কেই সমানভাবে সম্মান করা প্রয়োজন। কেউ যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে তিনি তার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে কথা বলবেন বলেও জানান।
মঙ্গলবার সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পার্থ বলেন, “সংবিধানটাকেও আমরা রেসপেক্ট করি, জুলাই সনদকেও আমরা রেসপেক্ট করি। যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়ায়, আমি তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম—উভয়েই একই দিনে শহীদ হয়েছেন এবং তাদের অবদান কারও চেয়ে কম নয়। জুলাই বিপ্লবকে আমরা শ্রদ্ধা করি। গত ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি।”
পার্থ অভিযোগ করেন, অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সমালোচনাকে ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। বর্তমানে একই ধরনের মনোভাব আবার দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “We have no problem with July. আমাদের সমস্যা প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় এগোতে চান, সেটাই প্রশ্ন।”
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই বিপ্লবী পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, তাহলে তখন একটি রেভুলুশনারি সরকার গঠন করা হয়নি কেন। তার মতে, পুরনো সংবিধানের ভেতর থেকেই সেটিকে বাতিল করার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়।
পার্থ আরও বলেন, সংসদে উপস্থিত অনেক সদস্যই জুলাই আন্দোলনের অংশ ছিলেন, তবে সুযোগ পেলেই একে অপরের অবদান অস্বীকার করা হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী, এলজিআরডি মন্ত্রীসহ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে সংগ্রামের অংশ। কিন্তু যখন ফ্লোর আপনাদের হাতে যায়, তখন আমাদের অবদান অস্বীকার করা হয়—এটা ঠিক নয়।”
শেষে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।





