সিলেটের রশিদপুর গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে নতুন গ্যাস সরবরাহ শুরু

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ :

গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের উৎপাদন বজায় রাখতে সিলেটের হবিগঞ্জের রশিদপুর গ্যাস ক্ষেত্রের ৩ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংযোজন করা হয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

গত কয়েক দিন ধরে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যার রান্নার সময় গ্যাস না থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের হটলাইন ১৬৪৯৬-এ যোগাযোগ করলে এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সঞ্চালন লাইনে চাপ কম থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সঞ্চালন লাইনে কাজ চলছে এবং সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কেন গ্যাসের চাপ কমছে?

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংকটের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে—

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি: দৈনিক ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত: মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ কমে যায়।

পুরনো পাইপলাইনের সমস্যা: জীর্ণ পাইপলাইনে ছিদ্র থাকায় গ্যাস অপচয় হয়।

অবৈধ সংযোগ: অবৈধভাবে নেওয়া সংযোগ বৈধ গ্রাহকদের চাপ কমিয়ে দিচ্ছে।

শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে অগ্রাধিকার: শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে বেশি গ্যাস সরবরাহ করায় আবাসিক খাত সংকটে পড়ছে।

গ্রাহকদের ভোগান্তি

চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন বা এলপিজি ব্যবহার করছেন, যা খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ রাতে রান্না করে দিনের খাবার মজুত রাখছেন।

একজন তিতাস কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় নিউজ চ্যানেল বিডিকে বলেন, গত ১০ বছরে দেশীয় খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের উদ্যোগ না নিয়ে বিদেশি কোম্পানির সাথে আমদানিনির্ভর চুক্তি করা হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, সরকারি পর্যায়ে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। শিল্পখাতও এখন গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও দেশীয় সম্পদ ব্যবহার না করলে ভবিষ্যতে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে।