স্টাফ রিপোর্টার, ০৮ মার্চ ২০২৬ : নিউজ চ্যানেল বিডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ সারাদেশে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্মমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর থেকেই সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪৯০৮টি মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির, ৭২টি উপজেলার জন্য মোট ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ১৯৮টি উপজেলার জন্য মোট ৩৯৬টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি মসজিদের ইমাম পাবেন মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন পাবেন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি মসজিদে মাসিক মোট ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়িত পাবেন ৩ হাজার টাকা। বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা। গির্জার যাজক পাবেন ৫ হাজার এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা। ফলে প্রতিটি মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারে মাসিক ৮ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্টদের জন্য ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়া দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবায়িত, বিহার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, যাজক ও সহকারী যাজকদের জন্য ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে।
এই সম্মানী প্রদানের জন্য চলতি অর্থবছরে মোট ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচিত উপকারভোগীদের কাছে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ পাঠানো হবে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। হাতে হাতে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না, ফলে এ ব্যবস্থায় দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।





