‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই হবে বর্ষবরণ: সংস্কৃতিমন্ত্রী

বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে নতুন নামে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার | ৫ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, মঙ্গল বা আনন্দ নামে নয়—এবার থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে। তিনি বলেন, নতুন সরকার নতুন উদ্দীপনায় নতুনের আহ্বান জানাতে কাজ করছে।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন সামনে রেখে আজ সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সরকার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা অনুষদে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে এবং আগের মতোই সেখান থেকেই শোভাযাত্রা বের হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ, যার শেকড় প্রাচীন কৃষিভিত্তিক সমাজে নিহিত। কৃষিকাজ, ঋতুচক্র ও নতুন বছরের সূচনাকে কেন্দ্র করেই এ উৎসবের বিকাশ ঘটেছে। এটি শুধু বাঙালিদের নয়, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সর্বজনীন উৎসব।

সভায় বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-এর মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা বটমূলসহ বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নববর্ষের শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি ঘুরে আবার চারুকলাতেই শেষ হবে।