স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম খাতের আধুনিকায়ন, শ্রম আইন সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
রোববার সচিবালয়ে শ্রমমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী আইএলও মহাপরিচালককে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, শ্রম খাতের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি জানান, এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএলওর ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫ সংশোধন, ত্রিপক্ষীয় ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম গঠন, স্বাধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম জাতীয়ভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান বাড়াতে একটি নতুন কর্মসংস্থান অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করে আত্মকর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রম অভিবাসনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কম খরচে কর্মী পাঠাতে সরকার কাজ করছে।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইএলওর কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রম পরিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন শ্রম পরিদর্শক নিয়োগসহ আইএলওর রোডম্যাপ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে আইএলওর ধারা ২৬-এর অধীনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি।
আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার, ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন এবং ২০২৬ সালের নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারমুখী উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ইপিজেডসহ সব কর্মক্ষেত্রে সংগঠনের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক শ্রমমান, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে আইএলও বাংলাদেশের পাশে থাকবে। আগামী অক্টোবরের প্রস্তাবিত যৌথ মিশনসহ নীতিগত ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দেন তিনি।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও আইএলওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





