এডিআর কার্যক্রম জোরদার হলে এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী

বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা সম্প্রসারণে আদালতের চাপ কমবে, দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব


স্টাফ রিপোর্টার | ২১ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬-এর আওতায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারকের স্বল্পতার কারণে সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা ও অধস্তন আদালত পর্যন্ত পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সময়ের দাবি।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমে অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। এ সময়ে পারিবারিক আদালতে মামলা প্রায় ৫১ শতাংশ, বণ্টনসংক্রান্ত মামলা ৬৭ শতাংশ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা প্রায় ৬৮ শতাংশ কমেছে। বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পেয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে এমন মামলাগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানো হলে আদালতের ওপর মামলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তিও কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের পরও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকার শুধু মামলার সংখ্যা কমাতে নয়, অসহায় ও বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতেও কাজ করছে।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে, যাতে আদালতের বাইরে আইনি উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও বেশি মানুষ গ্রহণ করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কম খরচে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পদ্ধতি। আদালতের ওপর মামলার চাপ কমাতে এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তি দিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল—এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।