বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান আন্দালিভ রহমানের

ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট বা প্রমোটকারীদের সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো ছাড়া উপায় নেই’

স্টাফ রিপোর্টার |২৫ আগস্ট ২০২৬:নিউজ চ্যানেল বিডি

বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘যেসব গণমাধ্যম ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট করে, প্রমোট করে কিংবা চর্চা করে তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার ও বয়কট করা ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে সরকারের ছয় মাসের বিশেষ অর্জন নিয়ে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী।

গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম’-এর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইন্টেলেকচুয়াল চিন্তা-চেতনায় কেউ ফ্যাসিজমকে সমর্থন বা প্রচার করলে সেটিকে সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো ছাড়া সরকারের অন্য কিছু করার থাকে না।

তিনি আরও বলেন, যারা মুক্ত বাংলাদেশ ও নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আন্দালিভ রহমান বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা একটি মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছরে যে মানসিকতা দেখা গেছে, তা ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বন্ধ করে দেওয়া বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই।

বিগত শাসনামলের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের সব সিস্টেম দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থার পর দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে।

এ অবস্থায় গণমাধ্যমের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, সমালোচনার মাধ্যমে সরকার যেন নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারে।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিষয়টি আদালত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।

তবে বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট দাবি হলো, জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সব অপরাধের সঠিক বিচারের স্বার্থে যাদের নামে মামলা রয়েছে, তাদের সবাইকে দেশে ফেরত আনা হবে।

সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, কমসংখ্যক পত্রিকা ছাপিয়ে লক্ষাধিক সার্কুলেশন দেখানোর অসত্য প্রক্রিয়া বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বাধীনতা সবারই রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে হোক কিংবা পক্ষে—জনগণের কথা তুলে ধরাই গণতন্ত্র।

তিনি জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও সরকারি মাধ্যমে এখন থেকে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবরও প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।