✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান, নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্ব

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহর পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিজেদের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতার কাজ করার পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই মানুষকে সুস্থ রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষিত হয় এবং রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

বৃক্ষরোপণে নিজের অতীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের আরও বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সৌদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী হিসেবে নিমগাছ নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে, যা এখন ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।

পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। এর পেছনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও পানিদূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মই দেশ পরিচালনা করবে, তাই এখন থেকেই দেশ গঠনে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ অন্যরা।

ডেঙ্গু ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন। এর অংশ হিসেবে তিনি রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শন করেন।