ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া, কেন এই অস্বাভাবিকতা?

ভরা মৌসুম চলছে, নদী ও সমুদ্রে জেলেদের জালে উঠছে রূপালি ইলিশ। তবুও বাজারে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মুখে হাসি নেই। কারণ…

ভরা মৌসুম চলছে, নদী ও সমুদ্রে জেলেদের জালে উঠছে রূপালি ইলিশ। তবুও বাজারে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মুখে হাসি নেই। কারণ ইলিশের দাম যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রশ্ন উঠছে—মৌসুমে সরবরাহ বেড়েছে, তারপরও দাম এত বেশি কেন?

বাংলাদেশে ভরা মৌসুমে সাধারণত ইলিশের দাম কিছুটা কমে আসার কথা। কিন্তু এবছর বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১২০০ থেকে ২০০০ টাকায়।

বিশেষজ্ঞ ও বাজার সংশ্লিষ্টরা দাম বাড়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন—

  1. চাহিদা ও সরবরাহের অসামঞ্জস্য
    ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ হওয়ায় ভোক্তাদের চাহিদা সর্বদা বেশি থাকে। ভরা মৌসুমে সরবরাহ বাড়লেও সেই তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি, ফলে দাম কমছে না।
  2. মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব
    জেলেদের কাছ থেকে পাইকাররা ইলিশ কিনে একাধিক ধাপে বাজারে ছাড়েন। প্রতিটি ধাপে দাম কিছুটা বাড়ে।
  3. রপ্তানির প্রভাব
    প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ইলিশ বিদেশে রপ্তানি হয়। ফলে স্থানীয় বাজারে চাপ তৈরি হয় এবং দাম বাড়ে।
  4. আবহাওয়ার প্রভাব ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা
    মৌসুমে জেলেরা নদীতে গেলেও অনেক সময় আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরা কমে যায়। এতে সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বাজারে প্রভাব পড়ে।
  5. সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয়
    বরফ, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাতকরণের বাড়তি খরচও দামের ওপর প্রভাব ফেলে।

ভোক্তাদের অভিযোগ—ভরা মৌসুমে সুলভ মূল্যে ইলিশ খাওয়ার সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা, মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভোক্তারা প্রকৃত অর্থে মৌসুমের ইলিশ উপভোগ করতে পারবেন।