ঢাকা, ১ অক্টোবর ২০২৫ (বুধবার):
রাজধানীতে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে টানা ছয় ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক। বুধবার দুপুর পর্যন্ত অনেক জায়গা থেকে পানি না নামায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
নিউ মার্কেট, গ্রিন রোড, আজিমপুর, আরামবাগ, মালিবাগ, মৌচাক মার্কেট, ধানমন্ডি, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিতে সড়ক ডুবে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিউ মার্কেট এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকতে দেখা যায়। কেউ হেঁটে, কেউ রিকশা বা ভ্যানে চড়ে চলাচল করেছেন। অনেক দোকানেও পানি ঢুকে পড়ে।
নিউ মার্কেটের দোকান কর্মী জুয়েল রানা বলেন,
“এইটা তো সারা বছরের দুর্ভোগ। রাস্তা নিচু বলে বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়।”
ব্যবসায়ী রোমান মিয়া জানান, কয়েক বছর ধরে একই সমস্যা চলছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা আগেভাগে মালপত্র উঁচুতে রাখেন। তারপরও অনেক সময় ক্ষতি হয়।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় দেশের সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন,
“আগামীকাল থেকে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে। ৪ তারিখ পর্যন্ত ভারি বর্ষণ চলতে পারে। ঢাকায় জলাবদ্ধতার সতর্কতা দিচ্ছি। কর্তৃপক্ষকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার বলেন,
“রাতভর বৃষ্টিতে ঢাকার প্রায় সব এলাকায় পানি জমেছিল। তবে বেলা ১২টার মধ্যে আশি ভাগ এলাকায় পানি নেমে গেছে। নিউ মার্কেটসহ কিছু এলাকায় এখনও পানি আছে। আমাদের কর্মীরা কাজ করছে।”
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এ বি এম সামসুল আলম জানান, খাল ও ড্রেন পরিষ্কারের কারণে এবার কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে বিমানবন্দর এলাকায় উন্নয়ন কাজের কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
তিনি বলেন,
“আগামী চার দিন ভারি বৃষ্টি হতে পারে। আমাদের কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত আছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে।”





