বিস্তারিত আসছে. স্টাফ রিপোর্টার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যার পর শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও অসুস্থতা অনুভব করায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেদিন রাতেই তাঁকে হাসপাতালে রেখে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং পরবর্তী কয়েক দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁকে আরও নিবিড় তত্ত্বাবধানের প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী ২৭ নভেম্বর সকালে তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে দেশীয় চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাও অনলাইনে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত আছেন প্রফেসর ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, প্রফেসর ডা. এফ এম সিদ্দিকী, প্রফেসর ডা. নুরুদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ডা. জিয়াউল হক, ডা. জাফর ইকবাল, প্রফেসর ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ, প্রফেসর ডা. মাসুম কামাল, প্রফেসর ডা. এ কিউ এম মহসিন এবং প্রফেসর ডা. শামসুল আরেফিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রফেসর ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. রফিকউদ্দিন আহমেদ, ডা. হামিদ রব ও প্রফেসর ডা. হ্যামিল্টন এবং যুক্তরাজ্যের প্রফেসর ডা. প্যাট্রিক ক্যানেরি ও ডা. জেনিফার ক্রস চিকিৎসা পরামর্শে নিয়মিত যুক্ত রয়েছেন। কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবায়দা রহমানও এই সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানান ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জেড এম এ জাহিদ হোসেন। তিনি আরও জানান, দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, জিয়া পরিবারের সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা হাসপাতালে উপস্থিত হচ্ছেন। তবে অযথা ভিড় এড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “হাসপাতালে আরও প্রায় তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন, তাই ভিড় চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে।”
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যার যার অবস্থান থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্যের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। ভিড় না করে দোয়ার মাধ্যমেই আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশ করুন।”
বিদেশে নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি জানান, “এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর এবং মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত পরামর্শের ওপর। চিকিৎসকরা যদি মনে করেন তিনি ভ্রমণের উপযোগী, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ডা. জাহিদ আরও জানান, ২৭, ২৮ ও ২৯ নভেম্বর—গত তিন দিন ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা একই পর্যায়ে রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, তিনি বর্তমানে দেওয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছেন এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি ‘স্টেবল’ অবস্থায় রয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জেড এম এ জাহিদ হোসেন।





