দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান: দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন রোডম্যাপে বিএনপির কঠোর অঙ্গীকার

ওলামা দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা

স্টাফ রিপোর্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান, নারী উন্নয়ন ও জাতীয় উন্নয়ন-রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য প্রদান করেন।

দুর্নীতি দমন: স্বাধীন দুর্নীতি কমিশন গঠনের ঘোষণা

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দুর্নীতির লাগাম শক্তভাবে টেনে ধরবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন— ২০০৫ সালে খালেদা জিয়ার সরকার স্বাধীন দুদক গঠন করে, যা সরকারি অনুমতি ছাড়াই তদন্ত করতে পারত।

তিনি ঘোষণা করেন—“ক্ষমতায় গেলে আবারও সম্পূর্ণ স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে।”

আইনশৃঙ্খলা ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব

তিনি বলেন—“যেকোনো মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। অন্যায়কারী যে-ই হোক, সে কোনো দলের নয়—অন্যায় তার নিজের।” তারেক রহমান দাবি করেন, অতীত বিএনপি সরকারের সময় দলের সদস্য অপরাধ করলে আইনই বিচার করেছে, দল নয়।

বিএনপির ৮ দফা জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার আটটি অগ্রাধিকার ইস্যু তুলে ধরেন তিনি—

  • তরুণদের কর্মসংস্থান
  • নারী নিরাপত্তা ও স্বাবলম্বিতা
  • শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার
  • স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
  • কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের সুরক্ষা
  • উলামা ও মসজিদভিত্তিক সামাজিক উন্নয়ন
  • ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ
  • বিদেশগামী কর্মীদের ভাষা ও টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ

তিনি বলেন—“জনগণ কথার ফুলঝুরি নয়, পরিষ্কার পরিকল্পনা চায়—বিএনপিই সেই পরিকল্পনা দিয়েছে।”

ফ্রি ইন্টারনেট সম্প্রসারণ পরিকল্পনা

তারেক রহমান জানান—স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রন্থাগার, ক্যাফেটেরিয়া, রেলস্টেশনসহ বহু স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন—

  • ডেটার উচ্চমূল্যে অনেক তরুণ কনটেন্ট তৈরি বা অনলাইন ব্যবসা করতে পারে না।
  • বিজ্ঞাপন-সমর্থিত মডেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফ্রি ইন্টারনেট দেওয়া হবে।

তিনি মন্তব্য করেন—“ইন্টারনেট এখন প্রায় মৌলিক অধিকার—তরুণদের জন্য এটি সহজলভ্য করতেই হবে।”

বিদেশে কর্মসংস্থান: ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক

তিনি জানান—প্রতিবছর ৮–১০ লাখ মানুষ বিদেশে গেলেও বেশিরভাগই আনস্কিলড। জাপান, ইতালি ও ইউরোপে কৃষি ও হেলথকেয়ারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি। এ প্রেক্ষিতে জেলা–বিভাগ পর্যায়ে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং স্কুলে ইংরেজির পাশাপাশি আরেকটি বিদেশি ভাষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

নারী উন্নয়ন ও ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

তারেক রহমান বলেন, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিএনপি বিশেষ অগ্রাধিকার দেবে। নারী ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক সাফল্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও সমর্থন দেওয়া হবে। পাশাপাশি নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির পরিকল্পনা

তিনি বলেন, “শুধু ডাক্তার–ইঞ্জিনিয়ার নয়; আন্তর্জাতিকমানের খেলোয়াড়ও তৈরি করতে চাই।” খেলোয়াড়দের অবসরের পর কোচিং ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও সৃষ্টি করা হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির ট্র্যাক রেকর্ড তুলে ধরা

তারেক রহমান দাবি করেন—খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নারীর শিক্ষা বিস্তার, দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ—এসব ক্ষেত্রেই বিএনপির অতীত সাফল্য রয়েছে।

মাঠে নেমে জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান

উপস্থিত ওলামা দল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বোঝাতে, ফোল্ডারের তথ্য জনগণের হাতে পৌঁছে দিতে, তরুণ, নারী, কৃষক, ইমাম–উলামা সবার সাথে যোগাযোগ বাড়াতে আহ্বান জানান।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন—“আজ বসে থাকার সুযোগ নেই—মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়লেই গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং দেশ রক্ষা পাবে।”