কৃষ্ণসাগরে অজ্ঞাত ড্রোন ধ্বংস করলো তুরস্ক

বায়ুসীমা নিরাপত্তার ঝুঁকিতে তুর্কি বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, ড্রোনের উৎস এখনো অজানা

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

কৃষ্ণসাগর এলাকায় একটি অজ্ঞাত ড্রোন ধ্বংস করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় তুরস্কের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করায় তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ড্রোনটি শনাক্ত হওয়ার পর ন্যাটো-নিয়ন্ত্রিত আকাশ নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় জনবহুল এলাকা থেকে দূরে কৃষ্ণসাগরের ওপরেই ড্রোনটিকে ধ্বংস করা হয়।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ড্রোনটির ধরন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কিংবা এটি কোন দেশের মালিকানাধীন—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ড্রোনটির উৎস ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে তদন্ত চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৃষ্ণসাগর অঞ্চল বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সামরিক এলাকা। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের আকাশসীমা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কোনো অননুমোদিত বা নিয়ন্ত্রণহীন উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকলের অংশ।

ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, ড্রোনটি রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুরস্কের পক্ষ থেকে কোনো দেশকে দায়ী করা হয়নি।

ঘটনার পর তুরস্কের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির আকাশ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।