স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আগের কমিটির বিরুদ্ধে বারবার টোপ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বাস্তবতা তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন রেজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, আগের যেসব প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ, সময়সূচি কিংবা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছিল না। বর্তমান প্রকল্পটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি জটিল হওয়ায় সরকার সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি জানান, তিস্তা প্রকল্পে একসঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ফলে প্রকল্পটিকে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর করতে কিছুটা সময় নেওয়া হচ্ছে। সরকার যখন কোনো প্রকল্প সাবমিট করে, তখন কাজ শুরুর সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করতে হয়, যাতে সহযোগী দেশগুলোও সেই সময় মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিতে পারে।
রেজওয়ানা হাসান বলেন, এবারে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তারিত কাজ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে গণশুনানি, জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রকল্পটি চীনে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে আরও যাচাই-বাছাই চলছে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং দুই দেশের মধ্যে নদী সংযোগও রয়েছে। তিস্তা প্রকল্পের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাত, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বড় হাসপাতাল নির্মাণেও চীন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। সমীক্ষা শেষে যদি দেখা যায় যে ব্যয় আরও বাড়বে, তাহলে চুক্তি পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়বে। সে কারণেই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থাকলেও চূড়ান্ত চুক্তির আগে সবদিক বিবেচনা করা হচ্ছে।
হতাশা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে রেজওয়ানা হাসান বলেন, হতাশ হয়ে কোনো লাভ নেই। বরং এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যাতে উভয় দেশই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং জনগণ প্রকৃত অর্থেই উপকৃত হয়।
তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বড় রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নির্বাচিত সরকারের হাতেই থাকা উচিত উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতের সরকার যেন আর অপেক্ষা না করে কাজ শুরু করতে পারে—সেই প্রস্তুতি গঙ্গা ও তিস্তা উভয় ক্ষেত্রেই করে রাখা হচ্ছে।





