ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির অভিযোগে ৪ জন গ্রেপ্তার

আরো পড়ুন

অনলাইন ডেস্ক : গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তারা হলেন, জাহিদ হাসান রেজাউল, মানিক বেপারি ওরফে দারোগা মানিক, ফারুক হোসেন ওরফে নাসির উদ্দিন ও রুবেল সিকদার রুস্তম। বুধবার ( ১৪ জুলাই) এসব তথ্য জানান ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশীদ।

ডিবির তেজগাঁও বিভাগ জানিয়েছে, নির্জন সড়কে পুলিশের তল্লাশী বসিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত চক্রটি। তাদের দেখে সাধারণ নাগরিকদের বোঝার উপায় নেই যে তারা ভুয়া। কারণ তাদের গায়ে থাকতো ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, ওয়াকিটকি, অস্ত্র ও হ্যান্ডকাফ। মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে যাচ্ছে এমন লোকজনকে টার্গেট করে ডাকাতি করতো তারা। এ চক্রের চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। ইদানিং ঈদকে টার্গেট করে বড় বড় পাইকারদের টার্গেট করেছিল তারা।

হারুন অর রশীদ বলেন, ডিবি পুলিশ সবসময় বা সব জায়গায় চেকপোস্ট বসায় না। সুতরাং পুলিশ পরিচয়ে কেউ সবকিছু নিতে চাইলে যাচাই করুন, আশপাশে পোশাকে দায়িত্বে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হোন।

ভুয়া ডিবি পুলিশের অপতৎপরতা রোধে সকলেরই সচেতনতা ও দায়িত্ব দরকার উল্লেখ করেন তিনি। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন,গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বসিলা এলাকা থেকে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ আন্তঃনগর ডাকাত দলের সদস্য। তারা ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে পশুর হাটে আসা ব্যাপারি ও ক্রেতাদের ডাকাতি করার পরিকল্পনা করছিল।

এছাড়াও তারা বিভিন্ন ব্যাংকের আশেপাশে ওঁতপেতে থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করা ব্যক্তিকে অনুসরণ করে। পরবর্তী ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ওই ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে ডাকাতি করে হাত পা বেধে দূরবর্তী স্থানে ফেলে দেয়।

এক প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশিদ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে গরুর পাইকার, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী কিংবা যে কেউ যদি মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করেন তাহলে পুলিশকে জানান, পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে মানিএস্কট সেবা নিন। মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেনে অলি গলিপথ এড়িয়ে চলুন, যেখানে সিসি ক্যামেরা সেখানে বসে লেনদেন করুন। গরু বহন করা গাড়ি, গরু কিংবা পশুর হাটে পাইকার ও ক্রেতার টাকা যেন কেউ ছিনতাই করতে না পারে সেজন্য ডিবি পুলিশসহ ডিএমপির অন্যান্য ইউনিট সক্রিয় রয়েছে।

কার কাছে টাকা আছে তা কি করে চক্রের সদস্যরা জানে? এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ব্যাংকে বা ব্যাংকের সামনে, যেখানে মোটা অঙ্কের লেনদেন হয় সেখানে তাদের সোর্স আছে। আবার গার্মেন্টেসে বেতন দেওয়ার সময় গাড়িতে করে টাকা আনা নেওয়া হয়। এটাই তারা সোর্সের মাধ্যমে নজরদারি করে ডাকাতির চেষ্টা করে। গ্রেপ্তারদের নামে ডিএমপিসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে ও তারা সবাই বিভিন্ন মেয়াদে হাজতবাস ও জেল খেটেছে বলে জানা যায়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক ২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপনspot_img

বিজ্ঞাপন

spot_img

জনপ্রিয় খবর