চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগে কাশিনাথপুরে পরিবহন ধর্মঘট ও মানববন্ধন

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিনিধি : সরকারি জমি দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান এএম রফিকউল্লাহকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক এমপি আরজু ও তার তিন সহযোগীর নাম উল্লেখ করে আমিনপুর থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরী করেন এবং আজ রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নগরবাড়ি ঘাটে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আরজুর অনুসারীরা ভোরে চেয়ারম্যান রফিকুল্লাহর বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করে অকথ্য ভাষায় শ্লোগান দিতে থাকে এবং মানববন্ধন কর্মসূচি বাতিল করার জন্য হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কাশিনাথপুর মোড়ে রবিবার ( ১৯ সেপ্টেম্বর ) সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় মোটর মালিক গ্রুপ ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এ সময় প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রতিবাদ সমাবেশ ও পরিবহন ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা এ এম রফিকুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার দুপুরে বেড়া উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের আব্দুল মতীনের বাড়িতে একটি কুলখানীর অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। বেলা আড়াইটার পর পরই এই আসনের সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজু ওই অনুষ্ঠানে ১০/১২ অনুসারীকে নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিতি জানতে পেরেই বিষোদগার করে শ্লোগান দিতে শুরু করেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমি ওই বাড়ির একটি কক্ষে আশ্রয় নেই। কিছুক্ষণ পর তিনি ওই ঘরে ঢুকে আমাকে অবৈধ এমপি বাজার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি মুক্তিযোদ্ধা নিয়েও অশ্রাব্য ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং আমাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকী দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান।
এ সময় উপস্থিত লোকজন সাবেক এমপির এমন আচরণে হতবিহবল হয়ে পড়েন। তারা এ সময় আমাকে শান্তনা দিয়ে বাড়ি পৌছে দেন বলেও দাবী করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি আরো জানান, সাবেক এমপি আরজুর অনুসারী অবৈধ অস্ত্রধারী চরমপন্থি ও নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। আমি নিরপত্তাহীনতায় ভুগছি, প্রশাসনের নিকট জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ডায়েরী করেছি। পাশাপাশি বিষয়টি স্থানীয় এমপি আহমেদ ফিরোজ কবির, পাবনা-৫ আসনের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্সসহ দলীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি।
ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীর অপচেষ্টাও করছেন সাবেক এমপি আরজু।
পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজু সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, চেয়ারম্যান রফিকুল্লাহকে লাঞ্ছিত করার কোন ঘটনাই ঘটেনি। কথিত এমপি বাজার নিয়ে তার সাথে কথাকাটাকাটি হয়েছে মাত্র। মুক্তিযোদ্ধা নিয়েও কটুক্তির অভিযোগটি অসত্য। তিনি আরও বলেন, আমার কোন অনুসারী তার বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধামকি দেয়নি, একটি বিশেষ মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার নামে মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে এবং আমার বিরদ্ধে পত্রিকায় মিথ্যে সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আমাকে সমাজের চোখে অপরাধী বানানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন আলী বলেন, পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এম রফিকুল্লাহ’র অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে সাবেক এমপি আরজুর অবৈধ সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে স্থাণীয় ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে এ এম রফিকুল্লাহ বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এমন আচরণ করেছেন।

বিজ্ঞাপনspot_img

বিজ্ঞাপন

spot_img

জনপ্রিয় খবর