✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

প্রবাসীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা

বিভাগীয় সদর দপ্তরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব খসড়া পর্যায়ে

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: প্রবাসীদের সম্পত্তি ক্রয় এবং পরিবারের কাছে পাঠানো টাকা ফেরত চাওয়াসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও আইনি হয়রানি কমাতে বিভাগীয় সদর দপ্তরে বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। প্রবাসীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এসব আদালত কাজ করবে।

আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি অভিবাসী শ্রমিকরা। তৈরি পোশাক, কৃষি, চিংড়ি, পাট ও চা রপ্তানির পাশাপাশি শ্রম রপ্তানি বর্তমানে দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিগুলোর একটি। কায়িক শ্রমের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক অভিবাসনও বিকশিত হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রবাসীরা দেশে আইনি সমস্যায় পড়লে লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা পাবেন। এ জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। সেখানে যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দুবাই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবন অত্যন্ত কষ্টকর। সকালে বাথরুমে যেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, কর্মস্থলে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা আগে রওনা হওয়া এবং রাত ৮টা-৯টায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা ও রান্না করার মতো কাজ করতে হয় তাঁদের। এত কঠোর পরিশ্রমের পরও অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা অনেক কম মজুরি পান। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রবাসীদের অন্যতম সংকট হিসেবে অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আরও অনেক ভিসা বাতিলের অপেক্ষায় রয়েছে।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি এমন ভুয়া সার্টিফিকেট ও নথিপত্র জমা দিচ্ছে, যেগুলোর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এখন সহজেই এসব নথির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

রামরুর ৩০ বছরের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংস্থাটির সম্পৃক্ততা কিংবা শ্রমিকদের নামে অর্থ এনে তহবিল তছরুপের অভিযোগ ওঠেনি। তিনি সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও স্বাধীন ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রামরুর ৩০ বছরের পথচলা আগামী ১০০ বছরে বিস্তৃত হবে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে ফিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং একসময় বাংলাদেশও অন্যান্য দেশ থেকে শ্রমিক গ্রহণ করবে।

প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইনমন্ত্রী।