মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুতে ইতিবাচক আলোচনা: রেলমন্ত্রী

দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের পর নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি।

তিনি বলেছেন, দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারে মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন।

দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের আলোচনা

রেলমন্ত্রী বলেন, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে দুই দেশের রেল যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, চিকিৎসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যাত্রীদের সময় ও ব্যয় কমবে

রেলমন্ত্রী বলেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু হলে দুই দেশের নাগরিকদের সরাসরি যাতায়াত আরও সহজ হবে।

বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে ভারত ও বাংলাদেশে যাতায়াতকারীদের জন্য এ রেলসেবা গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক ও আকাশপথের পাশাপাশি রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ বাড়লে মানুষের সময় ও ব্যয় দুটোই কমবে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান রেল যোগাযোগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগের পরিধি বাড়ানো, যাত্রীসেবা উন্নত করা এবং আন্তঃদেশীয় রেল ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি

রেলমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ যত বাড়বে, পারস্পরিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তত বেশি গতিশীল হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ট্রেনটি কবে থেকে আবার চলাচল শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলা সম্ভব নয়।

প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও প্রস্তুতি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ শুধু যাত্রী পরিবহনের একটি মাধ্যম নয়, এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে সরকার আগ্রহী।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ ট্রেন চলাচল

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

দীর্ঘ সময় ধরে এ ট্রেনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকরা দুই দেশে যাতায়াত করে আসছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ রয়েছে।