স্টাফ রিপোর্টার, ২৭ আগস্ট ২০২৬,নিউজ চ্যানেল বিডি
শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সংযোগ উভয় দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, কর্মসংস্থান এবং পেশাগত সম্ভাবনার ক্ষেত্রকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
আজ বৃহস্পতিবার চীনের গুয়াংডংয়ে অনুষ্ঠিত ‘কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকারের পরিকল্পনা হলো সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশি তরুণদের এগিয়ে রাখতে মান্দারিন (চীনা ভাষা) চর্চাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে টেকসই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ও ফিনান্সিয়াল টেকনোলজির মতো উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি।
চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আধুনিক কারিগরি পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, যৌথ সার্টিফিকেশন এবং এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন।
সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এছাড়া চীনের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী এবং চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চীনের ১১টি শীর্ষ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কলেজের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এনপিং ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন সেন্টার, গুয়াংডং লিটারেচার অ্যান্ড আর্ট ভোকেশনাল কলেজ, গুয়াংডং নানহুয়া ভোকেশনাল কলেজ অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমার্স, গুয়াংডং পলিটেকনিক অব সায়েন্স অ্যান্ড ট্রেড, গুয়াংডং টিচার্স কলেজ অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড আর্টস, গুয়াংডং ইঞ্জিনিয়ারিং পলিটেকনিক, গুয়াংডং কান্ট্রি গার্ডেন ভোকেশনাল কলেজ, গুয়াংডং জিয়াংমেন প্রিস্কুল এডুকেশন কলেজ, কিংইয়ুয়ান পলিটেকনিক, গুয়াংডং লিংনান ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ এবং গুয়াংঝু প্রিস্কুল এডুকেশন কলেজ।
এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টা ‘বেইডৌ+’ ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখেন। তারা রোবোটিক্স, রোবট ডগের প্রোগ্রামিং এবং চীনা চা সংস্কৃতির প্রদর্শনীও পর্যবেক্ষণ করেন।
বিশ্বব্যাপী কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুয়াংডং ‘চায়নিজ + ভোকেশনাল স্কিলস’ ইন্ডাস্ট্রি-এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন অ্যালায়েন্স চালু করা এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল। এর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প-শিক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষই আলোচনাকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সহযোগিতা কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





