✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

সারাদেশে সাইবার পুলিশ ইউনিট সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা, চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে সারাদেশে কেন্দ্রীয়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নবনির্মিত ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ ভবন ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচারব্যবস্থায় মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ, পরীক্ষালব্ধ সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর যথাযথ প্রত্যয়ন প্রয়োজন। অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় যুগের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। ডিজিটাল জগতে সাইবার পরিসর ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। প্রতারণা থেকে শুরু করে শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো অর্থনৈতিক অপরাধও সাইবার পরিসরের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুরু থেকেই পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী গত ১ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে এ ইউনিট কাজ করছে।

তিনি জানান, উদ্বোধন করা ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সাইবার পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সাইবার পুলিশ ইউনিটের পরীক্ষাগার সুবিধা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরীক্ষাগার ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই রাসায়নিক পরীক্ষাগার পরিচালনা করে আসছে। সেখানে ভিসেরাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সময়ের প্রয়োজনে এসব পরীক্ষাগারের সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রামে নবনির্মিত ভবন ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপনে কোরিয়া প্রজাতন্ত্র সরকার এবং কোরিয়ান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কইকা) সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ জন্য তিনি কোরিয়া সরকার, দেশটির রাষ্ট্রদূত, কইকার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সফরকারী দলের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, আধুনিক ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ বন্ধ ও প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমানভাবে সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে পরীক্ষাগারের সুযোগ-সুবিধা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক উপকরণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিম জি-ঝুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি (হেডকোয়ার্টার্স) সরদার নুরুল আমিন এবং অতিরিক্ত আইজিপি (সিআইডি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মুহাম্মদ শওকত আলী, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিআইডির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত ও তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তারের পাশাপাশি আর্থিক প্রতারণা, অবৈধ লেনদেন এবং অর্থের উৎস গোপন করার প্রবণতাও বাড়ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি, এনক্রিপ্টেড ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক হিসাব, ভুয়া পরিচয় এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে অপরাধীরা অর্থের প্রকৃত মালিকানা ও লেনদেনের গতিপথ আড়াল করার চেষ্টা করছে।

এ ছাড়া ডার্কওয়েব ও অন্যান্য গোপন অনলাইন নেটওয়ার্কের অপব্যবহারের মাধ্যমে মাদক ও অবৈধ পণ্য কেনাবেচা, চুরি করা তথ্যের লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি, ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।