স্টাফ রিপোর্টার | ৫ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় তাদের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের জন্য আগের নীল রঙের শার্ট বহাল থাকলেও প্যান্ট হবে খাকি রঙের।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নতুন ইউনিফর্ম বাস্তবায়নে কাপড় উৎপাদন ও প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় লাগবে, তবে দ্রুতই এটি কার্যকর করা হবে।
‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’-র সভা শেষে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে অংশ নেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা ও অবসর গ্রহণ—সবই নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং তা আইনানুগভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, জামিন একটি আইনি বিষয় হলেও, তারা যাতে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, গত ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বড় মাদক চোরাচালানকারী ও সীমান্তভিত্তিক সিন্ডিকেট দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় অবস্থানরত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাদক চোরাচালান রোধ এবং ক্যাম্পের ভেতরে-বাইরে আইনশৃঙ্খলা জোরদারেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল অধিবেশন। দীর্ঘদিন পর একটি প্রাণবন্ত ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে গঠনমূলক আলোচনা এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আইন পাস হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





