উজবেকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় বাংলাদেশ

সমরখন্দে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগে জোর

স্টাফ রিপোর্টার | ৬ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

উজবেকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। দেশটির সমরখন্দে উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী জামশিদ খোদজায়েভের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বোর্ড অব গভর্নরসের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে সমরখন্দ সফর করছেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে উজবেকিস্তারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩ মে শুরু হওয়া এডিবির বার্ষিক সম্মেলন আজ শেষ হচ্ছে।

বৈঠকে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর জন্য উজবেকিস্তান সরকার এবং বিশেষ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শভকত মির্জিইয়োয়েভের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে দুই দেশের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বাণিজ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি, পর্যটন ও গণযোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী ঢাকা-তাসখন্দ রুটে উজবেক এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পুনরায় চালুর আহ্বান জানান এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু করতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে উজবেকিস্তানের কূটনৈতিক মিশন চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও পাটজাত পণ্যের জন্য উজবেকিস্তানের বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধও জানান তিনি।

উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সফরের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান অর্থমন্ত্রী।

এ সময় উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটন খাতে অপেক্ষমাণ চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের বস্ত্র ও ওষুধ শিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি জানান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে শিগগিরই একটি উজবেক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে।