স্টাফ রিপোর্টার | ০৬ মে, ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন, রোহিঙ্গা সংকট, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্গ ঢাকা সফর করেছিলেন। আগামী জুনে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পুনর্গঠন কার্যক্রম সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি একটি ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পেয়েছিলেন, তবে গত আড়াই মাসে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বানও জানান তিনি।
অনিয়মিত ও অবৈধ অভিবাসন রোধে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে বলে জানান সুসান রাইল। তিনি বলেন, নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া কাজ করছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষ ও শিক্ষিত জনবল পাঠানোর মাধ্যমে নিয়মিত অভিবাসন বাড়াতে আগ্রহী।
বৈঠকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ছাড়া বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভার বহন করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী জানান, গত ৪ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্যাম্পে মাদক ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান, উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সিলর রুবেন গ্রে ও প্রথম সচিব হ্যারি থম্পসন উপস্থিত ছিলেন।





