স্টাফ রিপোর্টার, ৭ মে ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট ও দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এক প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও এখনও শিক্ষা খাতের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি।
বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি নিজেও ২০ বছর আগে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তেমন কোনো উন্নতি আমি দেখতে পাইনি। এটাই আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ।”
তিনি বলেন, ইউনিসেফের গবেষণায় মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। বর্তমানে শ্রেণিকক্ষের অবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে।
তার ভাষায়, “আমাদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও নির্বাহীরা সবাই সমস্যাগুলো জানেন। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে এসব সমস্যার সমাধান করব?”
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের গুণগত উন্নয়ন করা। “আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা” উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রস্তুত।
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন প্রশ্ন তুলে বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও যদি এই চিত্র থাকে, তাহলে এর জবাব কে দেবে?”
তিনি জানান, শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনেস্কোর পরামর্শ অনুযায়ী তা ৬ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বক্তব্যে তিনি শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “শিক্ষক এবং নীতিনির্ধারকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকমতো পড়তে পারে না। কেন এমন হচ্ছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না। অনেক কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।”
শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গবেষণার ফলাফল দেখার পর আর চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”





