বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

প্রতিরোধেই গুরুত্বারোপ, ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, ৭ মে ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী -এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায়।

বার্তায় বলা হয়, পিতা-মাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক হলে তাঁদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়োপযোগী পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

এবারের বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি’।

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক বলে ধারণা করা হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ নীতি অনুসরণ করছে এবং থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে এই নীতিকে সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়, বর্তমান সরকার একটি জনমুখী ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। রোগীর স্বাস্থ্য-তথ্য সংরক্ষণে নাগরিকদের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু হলে নাগরিকরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্য সহজেই জানতে পারবেন। একইসঙ্গে দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য দ্রুত জানতে সক্ষম হবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বরাতে বার্তায় বলা হয়, দুইজন থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহকের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই থ্যালাসেমিয়ার মতো দুরারোগ্য রক্তরোগ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারের পাশাপাশি সকল পেশাজীবী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন।